বৈষম্যের‌ দুনিয়ায়মানসিকস্বাস্থ্যওশ্রেণীরাজনীতি

ডাঃ সুবর্ণ গোস্বামী

আর পাঁচটা প্রাণীর মত মানুষেরও কিছু মৌলিক জৈবিক চাহিদা থাকে – খাদ্য, জল, আলো, বাতাস, যৌনসংসর্গ ইত্যাদি। জীবনধারণের এই প্রাথমিক বস্তুগত শর্তগুলো থেকে আংশিক বঞ্চিত হলে তার বিকাশ-বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, সম্পূর্ণ বঞ্চিত হলে মৃত্যু ঘটে। কিন্তু শুধুমাত্র এগুলো থেকে বঞ্চিত না হলেই অন্য প্রাণী বাঁচতে পারে, মানুষ বাঁচে না। সে সৃষ্টিশীল জীব, সর্বাঙ্গীন বিকাশের জন্য তার লক্ষ্য বহুমুখী কর্মসাধন। এতেই তার পরিতৃপ্তি, বেঁচে থাকার আনন্দ, অর্থবহতা। তাই এটাও তার বেঁচে থাকার ন্যূনতম শর্তের মধ্যেই পড়ে। এই শর্ত থেকে বঞ্চিত হলে তার সুখ থাকে না, সে ক্লিষ্ট হয়, একঘেঁয়েমির বেদনা ঘিরে ধরে তাকে; এই বঞ্চনা থেকে আসে অক্ষমতাবোধ, শ্রান্তি, এমনকি ক্রোধ; নৈরাশ্য পীড়া দেয় তাকে, অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। অ্যারিস্টটলের কথায় ‘সমৃদ্ধতর জীবনের’ জন্য, ক্রমবিকাশের সক্ষমতা অর্জনের জন্য এই ছটফটানিই মানুষকে মানুষ করেছে। আর মার্ক্সের কথায়, মৌমাছির চাক বাঁধার মত বা মাকড়সার জাল বোনার মত পুনরাবৃত্তিমূলক কাজের জন্য নয়, পরিশ্রমসিদ্ধ উদ্বর্তনের আকাঙ্খার জন্যই লক্ষ লক্ষ বছর ধরে সে যৌগিক শ্রম প্রয়োগ করে আসছে, নিজের একখান ঐতিহাসিক আখ্যানমালা তৈরী করেছে, যা আর কোন প্রাণী পারেনি। এই যৌগিক শ্রম দিয়ে সে কি সৃষ্টি করবে তা আগাম কল্পনা করতে পারে, অন্য মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে। তবে বস্তুগত প্রয়োজন মেটানোর তাগিদ থেকেই উৎপাদন শুরু করে সে। এটা তার মৌলিক সত্তা, যুগে যুগে যা অপরিবর্তিত থাকে। আর তার হাত ধরে আসে চেতনা, সমাজ চেতনা, যা উৎপাদন ও বন্টনের পদ্ধতি বদলের সঙ্গে সঙ্গে বদলায়। নতুন উৎপাদন সম্পর্কে, নয়া সমাজ ব্যবস্থায় তার সমাজ চেতনাও বদলায়। মানুষ কর্তৃক মানুষের শোষণ শুরু হয়েছে দাসপ্রথায়, সামন্ততন্ত্রে ও ধনতন্ত্রেও তা অব্যাহত থেকেছে। কিন্তু ধনতন্ত্র অন্যগুলোর থেকে আলাদা, কেননা সেখানে শোষণ যুক্তিরহিত, কিন্তু আপাতচক্ষে অদৃশ্য,  এবং তার কয়েকটা বিশেষ চরিত্র রয়েছে।

‘শরীর, শরীর, তোমার মন নাই কুসুম?’ মাণিক বন্দ্যোপাধ্যায় ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’য় সাব-অল্টার্ন জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি পরানের বৌ, ‘পাগল’ বলে পরিচিতা কুসুম, তাঁর স্বামীসঙ্গে যৌন অতৃপ্তিকে অবদমিত না রেখে পরপুরুষের কাছে প্রকাশ করায় এলিট সমাজের প্রতিনিধি শশী ডাক্তার তাঁর পুরুষতান্ত্রিক অহংবোধ থেকে একথা বলেছিলেন কিনা তা নিয়ে তর্ক থাকতে পারে। তবে শরীর, মন, সমাজ চেতনা সব নিয়েই তো একজন মানুষের সামগ্রিক অস্তিত্ব, একটার সঙ্গে অন্যটা ওতপ্রোত জড়িত, একটা আরেকটাকে প্রভাবিত করে। কিন্তু ধনতন্ত্র এক অদ্ভূত গুপিযন্ত্র, যা এগুলোকে আর অবিচ্ছেদ্য থাকতে দেয় না। মার্ক্স ও এঙ্গেলস দেখিয়েছেন, পূঁজিবাদী উৎপাদন ব্যবস্থা শুধুমাত্র মানুষকে তার উৎপাদনশীল কাজ থেকে, তার আপন সৃষ্টি থেকে, এমনকি সমগ্র সমাজ থেকে তাকে বিচ্ছিন্ন করেই ক্ষান্ত থাকেনি, তার নিজের থেকেও নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে ছেড়েছে। শ্রমজীবী মানুষ শুধু উৎপাদনের প্রকরণের উপর থেকেই নিয়ন্ত্রণ হারানো নয়, উৎপাদিত দ্রব্য বা পরিষেবার থেকে, এমনকি নিজের জীবন ও প্রবৃত্তির উপর থেকে আত্ম-নিয়ন্ত্রণও হারিয়েছে। ফলে এক অলীক চেতনা গড়ে ওঠে মানুষের মনোজগতে, আর বস্তুর ব্যবহারিক মূল্য ছাপিয়ে তার বিনিময়-মূল্যের গুণে সেই অলীক চেতনায় নিজের অজান্তেই একধরণের পণ্যপ্রেম বা বস্তু-কাম গড়ে তোলে সে। এই যে আপন স্বভাব থেকে, প্রজাতি সত্তা থেকে, মানব প্রকৃতি থেকে শ্রমজীবী মানুষের বিচ্ছিন্নতা ও নিয়ন্ত্রণহীনতা, তা শুধু বিষয়ীর বোধের জগতেই কাজ করে না, বরং শ্রেণীবিভক্ত সমাজে তার কর্ম ও অভিজ্ঞতার বিষয়গত কাঠামোও হয়ে ওঠে এটি। মানুষের আত্ম-প্রকাশ, আত্ম-উপলব্ধি, ইন্দ্রিয়গত সংবেদনশীলতা লোপাট হয়ে যায়। অর্থ ভিন্ন‌ জগতের আর কোন অর্থ থাকে না তার কাছে। তার নিজের জীবনের উপর নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শুধুমাত্র স্থূল প্রবৃত্তিগুলোর উপর ভর করে সে বেঁচে থাকে। কোনটা তার সত্যিই প্রয়োজন তা ভুলে গিয়ে সে ভোগের জন্য অর্থ ও পণ্যের পিছনে ছোটে। মানুষ আর মানুষ থাকে না, অমানবিক জানোয়ার হয়ে ওঠে, যূথবদ্ধতার স্বাভাবিক প্রবণতায় সমাজে একে অপরের হাত ধরার বদলে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দী হয়ে ওঠে। যৌথ সাধারণ স্বার্থ ছাড়া আর সে জোট বাঁধতে চায় না। পূঁজিবাদী উৎপাদন সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা সমাজে এটাই দস্তুর। অনিয়ন্ত্রিত মুনাফার পাহাড় জমানো যেমন এই ব্যবস্থার চালিকাশক্তি, শোষিত শ্রমিক শ্রেণীর মধ্যেও তেমনি বিচ্ছিন্নতা ও নিয়ন্ত্রনহীনতা গেঁড়ে বসে, বিষয়ীর বোধ ও বিষয়গত বাস্তবতা উভয় ক্ষেত্রেই। এই ব্যবস্থা এমনই যে এর উপর না শ্রমিকের নিয়ন্ত্রণ থাকে, না পূঁজিপতির। এই নিয়ন্ত্রণহীনতা ও বিচ্ছিন্নতাই ধনতন্ত্রের অনন্য বৈশিষ্ট্য।

প্রত্যেকটি নতুন সমাজে উৎপাদনের প্রকরণের প্রযুক্তিগত উন্নতি, উৎপাদিত সম্পদ বন্টনের নয়া সমীকরণ ইত্যাদির সঙ্গে সঙ্গে মানুষ তার নিজের শ্রমকে সচেতনভাবে নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা দিয়ে নতুন নতুন প্রয়োজন সামনে নিয়ে আসে, নতুন চাহিদা সৃষ্টি করে, অভিনব সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করে। এই যে উন্নততর বিকাশের সম্ভাবনাময় আত্ম-নিয়ন্ত্রণের মুক্তধারা – এর নামই স্বাধীনতা। পূঁজিবাদের অন্তর্নিহিত নিয়ন্ত্রণহীনতা ও বিচ্ছিন্নতা এই স্বাধীনতার পায়ে বেড়ি দিয়ে রাখে। এর থেকে শুধু শ্রমিক শ্রেণীরই নয়, পূঁজির মালিকেরও কোন মুক্তি নেই। তবে মালিকশ্রেণী তা পুষিয়ে নেয় কারণ অর্থ দিয়ে সমস্তকিছুই তার ক্রয়যোগ্য। অনটনে নিরর্থ শ্রমজীবী মানুষের বস্তুগত ও বৌদ্ধিক প্রয়োজন ও চাহিদাই শুধু অবদমিত হয় তা নয় বিপন্ন হয় তার প্রকৃত স্বাধীনতা, অবদমিত হয় নিজের শ্রমের উপর নিজের নিয়ন্ত্রণ। এখান থেকেই যাবতীয় অবসাদ, উৎকন্ঠা, মানসিক পীড়ার উৎপত্তি।

মার্ক্সের এই ব্যাখ্যার সঙ্গে ফ্রয়েডের তত্ত্বের মূল ফারাক এখানেই। ফ্রয়েডের তত্ত্বের গোঁড়ার কথা হল মার্ক্সের বিপরীতমুখী। প্রথমতঃ, মার্ক্স যেখানে সমাজকেই দায়ী করেছেন অবদমনের জন্য, সেখানে ফ্রয়েডের মনোবিশ্লেষণ তত্ত্ব বলে সমাজ-সভ্যতার বিকাশের স্বার্থেই মানুষ নিজেই তার জৈবিক প্রবৃত্তি, বিশেষতঃ যৌন প্রবৃত্তিকে অবদমিত রাখে। দ্বিতীয়তঃ, মার্ক্স বিশ্লেষণ করেছেন সামগ্রিকতার নিরীখে, ফ্রয়েড শুধুমাত্র একটা জৈবিক প্রবৃত্তি দিয়েই সমগ্র সমাজকে ব্যাখ্যা করেছেন। হেগেলের দ্বন্দ্বতত্ত্ব ও ফয়েরবাখের বস্তুবাদকে ভিত্তি করে গড়ে উঠলেও মার্ক্সের ঐতিহাসিক ও দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ ঐ দুই দর্শনের ককটেল নয়, এক স্বতন্ত্র দর্শন, যা তর্কসাপেক্ষে প্রমাণ করেছে ধনতন্ত্রই মানুষকে বাধ্য করেছে অবদমনে, সে এই অবদমন চায় না, বরং তা থেকে প্রাণমনে ছুটকারা চায়। সমস্যা ব্যক্তিমানুষের মনের অন্দরে নয়, সমাজ কাঠামোর গভীরে।

যদি কোন দেশে একজন কৃষক আত্মহত্যা করত, পাঁচজন যুবক যুবতী কাজ না পেয়ে বেকারীত্বের জ্বালায় অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ত, দশজন ছাত্র বা ছাত্রীর আচরণগত সমস্যা দেখা দিত, অবশ্যই তাদের ব্যক্তিগত পরিসরে তার কারণ ও সমাধান খুঁজতে হত। কিন্তু যখন ভারতে প্রতি একশো জনে সাতজন মানসিক সমস্যায় ভোগে, সুখের সূচকে ফার্স্টবয় ভূটানেও প্রতিবছর আত্মহত্যা বাড়তে থাকে, বছর তিনেক আগে সুখীতম শহরের তকমা পাওয়া কোপেনহাগেনেও বিষন্নতা ও অবসাদ বাড়ে লাফিয়ে লাফিয়ে, দুনিয়ার প্রমোদনগরী লা ভেগাসে বারো থেকে আঠারো বছর বয়সীদের জন্য নেশামুক্তিকেন্দ্রের সংখ্যা বেড়েই চলে, নরওয়ে, আইসল্যান্ড ও সুইজারল্যান্ডের ২৭ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে প্রতিবছর মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হয়, ব্রিটেনে ক্যান্সার ও হৃদরোগে মোট আক্রান্তদের দেড়গুণ মানুষ ডিপ্রেসনে ভোগে, এবং এই সবদেশেই আক্রান্তদের মধ্যে কম আয়ের মানুষের সংখ্যাধিক্য থাকে, তখন বুঝতে হয় তার কারণ ও সমাধান দুটোই নিহিত আছে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থাটার মধ্যে। অবসাদের প্রকোপ লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকায়, উৎকন্ঠার প্রাদুর্ভাব আফ্রিকায় সর্বাধিক, আত্মহত্যা বেশী করে ইউরোপ ও আফ্রিকার নিম্নমধ্য আয়ের দেশগুলোর ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সীরা।

মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে বোঝাপড়া তাই প্রাথমিকভাবে বৃহত্তর সমাজের অর্থনৈতিক অবকাঠামোর উপর ও ঐতিহাসিকভাবে তার উপরিকাঠামোর দাঁড়িয়েই করতে হবে, দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদের আলো ফেলেই তাকে কাটাছেঁড়া করতে হবে। পূঁজিবাদের বিকাশের এক এক সময়কালে মানসিক সমস্যার ধরণ ছিল এক একরকম। হিস্টিরিয়া সাধারণভাবে ঊনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীর সমস্যা ছিল, যা অনেকটাই বিরল। আবার উৎকন্ঠা ও অবসাদ আজকের উদার অর্থনীতির সমস্যা, যা আগে তেমনভাবে ছিল না। তাই মানসিক সমস্যাকে ধরা যেতে পারে সমসাময়িক সমাজের কাঠামোগত উপাদানগুলোর সঙ্গে ব্যক্তিমানুষের জীবনের অভিজ্ঞতার সংঘাত বা দ্বন্দ্বের ফল হিসেবে। মানসিক সমস্যা নিয়ে কেউ জন্মায় না, এই সমাজে বসবাস করতে গিয়েই কেউ কেউ মানসিক সমস্যা ‘অর্জন করে’। আবার একই সমাজে বাস করে কেউ কেউ সমস্যায় পড়েন, বাকীরা কেন পড়েন না, এটারও মীমাংসা হবে দ্বান্দ্বিক পদ্ধতিতে।

তার আগে দেখে নেওয়া যাক বিভিন্ন সময়ের দর্শন ও দার্শনিকরা, মনোবিদরা কিভাবে দেখেছেন মন, মানসিক স্বাস্থ্য ও সমস্যাকে। প্লেটো, অ্যারিস্টটল থেকে দেকার্তে সকলেই বিশ্বাস করতেন মন‌ও শরীর দুটো ভিন্ন, স্বাধীন সত্তা। কান্ট মনে করতেন বাস্তব জগতে মানুষের মনের কোন প্রণিধানযোগ্য স্থান নেই, কারণ মনের সীমাবদ্ধতা ও স্বকীয়তা আমাদের বোধকে বিকৃত করে দেয়। নিৎশে বললেন মন শরীরে মূর্ত, শরীর তার বিভিন্ন ইন্দ্রিয় দিয়ে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করে তার রূপকগত স্থানান্তর হয় মনে। ফ্রয়েড বললেন মানুষের চেতনা আসলে অচেতন মনে লুক্কায়িত অতীত জীবনের অভিজ্ঞতার সমাহার। যৌনতার বিভিন্ন আঙ্গিক দিয়ে তিনি ব্যাখ্যা করলেন জাগতিক প্রায় সমস্ত কিছুকে। ফ্রয়েডকে নিয়ে বিপ্লবোত্তর রাশিয়ায় কিছুটা আগ্রহ তৈরী হয়েছিল, বলশেভিকদের মধ্যে ট্রটস্কি, বুখারিন, রাদেক প্রমূখের উৎসাহে। তবে তথ্য বলে লেনিনের সায় ছিল না তাতে, পরে স্তালিনের সময় রাশিয়ায় গুরুত্ব হারায় এই তত্ত্ব। ঐসময় জার্মানির বিপ্লব ব্যর্থ হবার পর ওদেশের অনেক তাত্বিকের মনে হয় বিষয়ীগত বাস্তবতা সত্বেও বিপ্লব ব্যর্থ হয় মার্ক্সবাদে বিষয়ীগত খামতির জন্য। অ্যাডর্নো, মার্কুজ, হর্খেইমার, হাবারমাস প্রমুখ ফ্রাঙ্কফুর্ট স্কুলের চিন্তাবিদ সমাজের উপরিকাঠামো ও বিষয়ীগত নানা দিক নিয়ে একের পর এক তত্ত্ব খাড়া করতে থাকেন, যাঁদের মধ্যে মার্ক্সবাদ ও ফ্রয়েডবাদ উভয়কে মেলানোর একটা চেষ্টা ছিল প্রবল। তাঁদের মধ্যে মনোবিদ এরিক ফ্রম অবশ্য ফ্রয়েডের বিরোধিতা করে বললেন, একজন ব্যক্তিমানুষ সমাজের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারছে কিনা তা দিয়ে নয়, বরং সমাজ ঐ ব্যক্তির প্রয়োজনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছে কিনা তার ভিত্তিতে মানসিক স্বাস্থ্যকে সংজ্ঞায়িত করা উচিত; একজন মানুষ মানসিক ভাবে সুস্থ কিনা তা প্রাথমিক ভাবে তার ব্যক্তিগত বিষয় নয়, এটা নির্ভর করে সমাজের কাঠামোর উপর। তিনি আরো বললেন, মানসিক চরিত্র বংশগতি এবং স্কুল-কলেজ-সমাজ থেকে আমরা যা শিখি, এই দুই প্রভাবের পারস্পরিক ক্রিয়ায় নির্মিত হয়। ফ্রান্সে ১৯৬৮ সালে মে মাসের ঘটনাবলী ও ছাত্র আন্দোলনকে আসন্ন বিপ্লব বলে ভ্রম হয় অনেকের, স্বাভাবিকভাবেই তা ব্যর্থ হলে আবার কিছু ফরাসী চিন্তাবিদ আবার মার্ক্সবাদে বিষয়ীগত খামতির কথা তুলে ফ্রয়েডের মতবাদকে আঁকড়ে, হেগেলকে টেনে এনে উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেন। মনোবিদ জাক লাকাঁ ছিলেন তাঁদের পথিকৃৎ। ফ্রয়েডের মতই তাঁর অধিকাংশ তত্ত্বও ছিল মূলতঃ যৌনতাকেন্দ্রিক, লুসি ইরিগারের মত নারীবাদী চিন্তকবৃন্দ যার তীব্র সমালোচনা করেন। আবার ফ্রানজ ফানোঁর মত উত্তর-উপনিবেশবাদী মনোবিদ লাকাঁর তত্ত্বকে মান্যতা দিয়ে দুর্বল উপনিবেশিতের উপর সবল উপনিবেশকের আগ্রাসন তথা অবদমন অভ্যন্তরীনীকৃত হয়ে তার সংস্কৃতিকে কিভাবে বদলে দেয়, তা ব্যাখ্যা করলেন। পরবর্তীতে এডোয়ার্ড সাঈদ ও হোমি কে ভাবা সেই মতেই সায় দেন। বেঁচে থাকার অর্থ খুঁজতে গিয়ে অস্তিত্ববাদী স্যসূর, ভিটগেনস্টাইনরা ভাষার শৃঙ্খল ভেঙে যাওয়া দিয়ে ব্যাখ্যা করলেন মনোবিকারকে। আর এক অস্তিত্ববাদী হাইডেগার অধিবিদ্যার যুগাবসান ঘোষণা করে মানসিক অসুস্থতাকে দেখালেন ব্যক্তির অস্তিত্বের ঝঞ্ঝাট হিসেবে। কাঠামোবাদী নৃতত্ত্ববিদ লেভি-স্ট্রস মার্ক্সবাদের মৌলিক ধারণার বিপ্রতীপে গিয়ে বললেন অসভ্য ও সভ্য মানুষের মানসিক গঠন অভিন্ন অর্থাৎ সব সমাজব্যবস্থাতেই তা একই। উত্তর-কাঠামোবাদীরা অনেকে রঁলা বার্থের ‘ভিস্যুয়াল ইমেজারি’ ও ‘মিথ’ দিয়ে মানসিক অসুস্থতাকে তত্ত্বায়িত করলেন। ফুকো পাগলামিকে দেখালেন মানুষের অস্বাভাবিক আচরণকে শৃঙ্খলায়িত করবার ও শাস্তি দেবার প্রাতিষ্ঠানিক প্রচেষ্টা হিসাবে, কাঠগড়ায় তুললেন ক্ষমতা/জ্ঞানকে। মোটের উপর উত্তর-আধুনিকতাবাদীরা প্রায় সকলেই তথ্য, সত্য ও বিজ্ঞানের উপরে স্থান দিলেন ডিসকোর্সের ধারণাকে। তাঁদের মূল বক্তব্য হল সমাজ তথা সমষ্টির উপরে ব্যক্তির ঠাঁই ও একটা সামগ্রিক বিশ্ববীক্ষার চেয়ে বহু খন্ড স্থানিক ন্যারেটিভ বেশী বিশ্বাসযোগ্য। অর্থাৎ সমগ্রকে হ্রাস করে নামিয়ে এনে খন্ডকেই সমগ্র বলে দেখার দর্শন।

গাণিতিক নিয়মে ভগ্নাংশ আর সমগ্র কখনই এক হতে পারে না। এই হ্রাসবাদ বা খন্ডতাবাদের মধ্যে যুক্তি থাকে না, তা বিজ্ঞানসম্মতও নয়। সমগ্রের খন্ড বা অংশ এবং সমগ্র নিজে পরষ্পরকে শর্তাধীনে নিয়ন্ত্রণ করে, অর্থাৎ এক দ্বান্দিকতার জন্ম দেয়। সিকি কখনো ষোল আনা নয়, ষোল আনাও কখনো আধুলি বা সিকি নয়। সিকি বা চার-আনাকে ষোল আনা হতে গেলে ওরকম চারটে সিকি লাগে, আবার আধুলি বা আট-আনা দুটো হলেই চলে। যেমন যৌনতা দিয়ে সমগ্র মানব প্রকৃতিকে ব্যাখ্যা একরকমের খন্ডতাবাদ, তেমনি ব্যক্তিকে দিয়ে সমষ্টিকে ব্যাখ্যা করাও একপ্রকার হ্রাসবাদ। যান্ত্রিক বা অর্থনীতিসর্বস্য মার্ক্সবাদ আবার আর একধরণের হ্রাসবাদ, তা মানসিক সমস্যার পিছনে শুধুই পূঁজি ও রাষ্ট্রকে দায়ী করে; পরিবার, সঙ্গী, চারপাশের লোকজনের সঙ্গে আন্তঃসম্পর্কের প্রভাব অস্বীকার করে। আবার সমস্ত মানসিক সমস্যার পশ্চাতে হয় জিনগত কারণ, নয় মস্তিষ্কের জৈবরাসায়নিক বিক্রিয়া রয়েছে, এধরণের নির্ধারণবাদও আসলে হ্রাসবাদেরই নামান্তর।

ধরা যাক একজন মানুষ, যাঁর পরিবারে অবসাদের ইতিহাস আছে, তিনিও অবসাদের উপসর্গ নিয়ে আজ মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে গেলেন। এক্ষেত্রে তিনটে সম্ভাবনা থাকে – এক) তিনি রোগীকে অ্যান্টিডিপ্রেসান্ট ওষুধ দেন রোগীর মস্তিষ্কে নিউরোট্রান্সমিটারের মাত্রায় হেরফের ঘটিয়ে তার উপশম ঘটাবেন বলে। দুই)  তিনি রোগীকে খুঁচিয়ে তার শৈশবের কোন নিগ্রহের ঘটনা জেনে নিয়ে টকিং থেরাপির জন্য মনোবিদের কাছে পাঠান। তিন) খোলামেলা কথা বলে তিনি জানতে পারেন যে লকডাউনে রোগীর চাকরীটা চলে যাবার আগে অব্দি অথবা ব্যাঙ্কের দেনার কিস্তি শোধ করতে না-পারার আগে অব্দি রোগী ভালোই ছিল। তখন কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে তিনি রোগীকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে মনোবল জোগান। প্রথমটি হল বায়োমেডিক্যাল মডেল, দ্বিতীয়টি ফ্রয়েডিয়ান মনো-অন্বেষণের মডেল ও তৃতীয়টি সাইকো-সোশ্যাল মডেল। এ তো গেল চিকিৎসা। কিন্তু প্রতিরোধ কিভাবে হবে?

দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদের নিয়মে মানুষের শ্রেণীগত অবস্থান (সমগ্র) ও ব্যক্তিজীবনের অভিজ্ঞতা (অংশ বা খন্ড) পরস্পরের মিথোস্ক্রিয়ার মাধ্যমে একে অপরকে বাস্তব রূপ দেয়, আকার দেয়। ব্যক্তিমানুষের মানসিক স্বাস্থ্য নির্ভর করে এই মিথোস্ক্রিয়ার উপরে। মানুষের ব্যক্তিজীবনের অভিজ্ঞতা আহরিত হয় তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পাঠক্রম, তার কাজ, কাজের ধরণ ও কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ, পরিবার পরিজন, রাজনৈতিক সংগঠন – সমস্তকিছু থেকে। তবে ব্যক্তিমানুষ শুধুই একতরফা ও নিষ্ক্রিয় ভাবে  অভিজ্ঞতা আহরন করে যেতে থাকে না, প্রত্যেকটা অভিজ্ঞতায় সে নিজেও সক্রিয়ভাবে প্রতিক্রিয়া দেয়। সে এই প্রত্যেকটা অভিজ্ঞতার প্রতি কী প্রতিক্রিয়া দেয়, কী অর্থ বা তাৎপর্য আরোপ করে, তার কী বোঝাপড়া হয়, তার উপরেই তার মানসিক স্বাস্থ্য নির্ভর করে। একজন কাজ হারানো বা বেকার যুবক বা যুবতী অবসাদে ভুগবে, একজন ঋণগ্রস্ত কৃষক আত্মহত্যা করবে, নাকি তারা যে ব্যবস্থা তাদের এই হাল করেছে তার বিরুদ্ধে লড়তে নামবে, নির্ভর করে তারা ব্যর্থতাগুলোর ব্যক্তিগতকরণ করছে নাকি সাধারণীকরন করছে, তার উপর। মানুষ তার ব্যক্তিজীবনের নতুন অভিজ্ঞতার উপর যে অর্থ আরোপ করে তা ব্যক্তিগত পূর্ব-অভিজ্ঞতাসঞ্জাতই হয়, এমনটা নয়; বরং সমাজের যৌথ সমষ্টিগত প্রতিরোধের, লড়াইয়ের অভিজ্ঞতাও তা স্থির করে দেয়। যৌথ সমষ্টিগত লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা যার যত বেশী থাকে, টাটকা থাকে, তার কাছে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার চেয়ে যৌথ সমষ্টিগত অভিজ্ঞতার প্রতি আরোপিত অর্থ তত বেশী গুরুত্ব পায়। সাফল্য, ব্যর্থতা – দুটোকেই পূঁজিবাদ ব্যক্তিগত বলে দাঁড় করাতে চায়, আসলে যে দুটোই সমষ্টিগত অর্জন, তা ভুলিয়ে দিতে চায়। সমষ্টিগত অর্জনের অভিজ্ঞতা ও তার উপর ব্যক্তির মনোজগতের প্রতিক্রিয়ায় ক্রমশঃ অলীক চেতনা ফিকে হয়ে প্রোজ্জ্বল শ্রেণী চেতনায় উত্তরণ ঘটে, পণ্যকামের মোহজাল কাটতে থাকে, সে আত্ম-নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা আয়ত্ত করতে শেখে, নিজেকে চিনতে পারে, নিজের সঙ্গে নিজের ও সমাজের বিচ্ছিন্নতাকে অতিক্রম করতে পারে। শ্রেণীসংগ্রামে শ্রমজীবী মানুষের অংশগ্রহণ যত ব্যাপকতর হয়, শ্রেণীসংগ্রাম যত তীব্রতর হয়, অবসাদ, উৎকন্ঠা, আত্মহনন-প্রবণতা, অন্যান্য মানসিক সমস্যাও তত কমে আসে। শ্রেণীসংগ্রামের তীব্রতর হলেই সাইকিয়াট্রিস্ট ও সাইকোলজিস্টের ক্লিনিকের লাইন থেকে ভিড় সরে আসে লড়াইয়ের ব্যারিকেডের এধারে, পিকেটিংয়ের লাইনে, মিছিল দীর্ঘতর হয়।

কিন্তু পূঁজিবাদ কি চায় তার মুনাফা অর্জনের প্রধান শর্ত শ্রমশক্তি অবসাদে, উৎকন্ঠায় থাকুক? তার উৎপাদনশীলতা কমে যাক? না চায় না, চাইতে পারে না। কৃষক যেমন তার বলদজোড়াকে খাইয়ে, যত্ন করে রাখে, যাতে সে পাঁচ ঘন্টার জায়গায় তিন ঘন্টায় তার জমি লাঙল দিয়ে চষে ফেলতে পারে, ঠিক তেমনি মালিক তার শ্রমিকের জন্য, আপিসের বস তার কর্মচারীদের জন্য কারখানায়, আপিসে জিমখানা প্রস্তুত রাখে, ওজন কমানোর বন্দোবস্ত করে, বৎসরান্তে চড়ুইভাতি করায়, বেস্ট এমপ্লয়ী অ্যাওয়ার্ড দেয়, মেডিটেশন বা যোগব্যায়াম শেখায়, মায় কাউন্সেলর বা মনোবিদ অব্দি ভাড়া করে আনে। মিলিটারি ব্যারাকে করমুক্ত মদের জোগান, প্রায় প্রত্যেকটা ব্যারাকের আশেপাশে যৌনকর্মীর সংস্থান, বেকার মজুদ বাহিনীর মনোরঞ্জনের জন্য মেলা-খেলা-উৎসব-মোচ্ছব, পর্নোগ্রাফি, আইপিএল, সরকারী টাকায় দূগ্গাপূজো, ক্লাবে খয়রাতি – হরেক বন্দোবস্ত। শুধু তাই নয়, বড় বড় ফার্মা কোম্পানী অ্যান্টিডিপ্রেসান্টের নতুন‌ নতুন মলিকিউল বাজারে আনে। আর তাদেরই স্পনশরশিপে পুষ্ট প্যানেলকে দিয়ে সাইকিয়াট্রির ডায়াগনস্টিক ও স্ট্যাটিস্টিক্যাল ম্যানুয়াল বানায়, যেখানে ব্যবসার পরিধি বাড়াতে আত্মীয়বিয়োগজনিত শোক-দুঃখকে কিংবা বয়সজনিত কারণে ভুলে যাওয়াকেও মনোরোগের আওতায় নিয়ে আসা হয়। প্রাত্যহিক জীবনের নানা অভিজ্ঞতাকে রোগ বলে চিহ্নিত করে তাকে চিকিৎসার আওতায় নিয়ে আসা হয়, ইংরেজীতে যাকে বলে মেডিক্যালাইজেশন। অবসাদ, উৎকন্ঠা, নেশা, বাইপোলার ডিসর্ডার, স্কিৎজোফ্রেনিয়া, আত্যহনন-প্রবণতা – এগুলো যে সামাজিক কারণে নয়, মস্তিষ্কের জৈবরাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে হয়, তা প্রমাণ করবার কোন বায়ো-মার্কার আজ অব্দি আবিষ্কৃত না হলেও, শুধুমাত্র উপসর্গমালার ভিত্তিতেই আজো রোগ নিরূপণ ও চিকিৎসা চললেও, গবেষণা যেখানে যেটুক হয়, তা মূলতঃ বৃহৎ ফার্মা কোম্পানির অর্থ ও উৎসাহে চললেও, সাইকিয়াট্রি‌‌ ও সাইকোলজির ছাত্রদের শেখানো হয় রোগীর শুধুমাত্র ব্যক্তিজীবন ও পরিবারের ইতিহাস জেনে লিপিবদ্ধ করতে, কিন্তু তার সামাজিক ইতিহাস জানবার কথা শেখানো হয় না!

যেসব দর্শন সমষ্টিকে অস্বীকার করে ব্যক্তিস্বাতন্ত্রবাদ ও আঞ্চলিক, জাতিগত, লিঙ্গগত নানা পরিচিতি-সত্তাকে উর্ধ্বে তুলে ধরে, সেগুলো আসলে পূঁজিবাদের অভীপ্সাই পূরণ করছে, যাতে মানুষ তার সমস্ত ব্যর্থতার জন্য, অক্ষমতার জন্য, বিচ্ছিন্নতার জন্য, নিয়ন্ত্রণহীনতার জন্য পূঁজিবাদী সমাজব্যবস্থাকে কাঠগড়ায় না তুলে তার শ্রেণীগত অবস্থান ভুলে গিয়ে হয় নিজেকে বা তার পরিচিতি সত্তাকে দায়ী করে এবং সমস্যার সমাধানে আবার পূঁজিবাদী সিস্টেমেরই দ্বারস্থ হয়, বহুজাতিক ফার্মা কোম্পানীগুলোর মদতে চলা সাইকিয়াট্রির দ্বারস্থ হয়, তাদের মুনাফা বাড়ায়। আর রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হয় বেসরকারীকরণের নতুন নতুন রাস্তা খুঁজে তা হাট করে খুলে দেওয়া।

সমাজ ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বুর্জোয়া রাষ্ট্রযন্ত্র এই ব্যবস্থাটাকে টিকিয়ে রাখতে যা যা করা প্রয়োজন, ঠিক তাই তাই করে। উপরিকাঠামোর কুঠরিগুলোতে সমতার প্রপঞ্চ বুনে অবকাঠামো বদলানোর লড়াইকে ঠেকিয়ে রাখে। কিন্তু প্রশ্ন, শ্রেণীহীন, রাষ্ট্রহীন সমাজে কি অবসাদ, বিষাদ, উৎকন্ঠা থাকবে না ? আলবাৎ থাকবে, বেশী করে থাকবে। প্রিয়জনকে হারিয়ে শোকে মুষড়ে পড়বে মানুষ, নিজের সৃষ্টির ঔৎকর্ষ নিয়ে খুঁতখুতানি তাড়িত করবে তাকে, সম্পর্কের টানাপোড়েন, ভাঙন তাকে উদ্বেলিত করবে। অবসাদ, বিষন্নতাও কখনো দেখা দেবে হয়তো, কারণ তা অনিবার্য, কিন্তু ক্লিনিক্যাল ডিপ্রেসনের কোন কারণ থাকবে না। নির্বিচারে শুধু মুনাফার খাতিরে চকচকে অ্যালু-অ্যালু প্যাকে ভরা অ্যান্টি-ডিপ্রেসান্টের বড়ি তার দিকে বাড়িয়ে দেবে না কোন বহুজাতিক ফার্মা কোম্পানি, বরং সমাজ বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেবে তার দিকে।

মানসিক সমস্যা প্রতিরোধের তাই একটাই রাস্তা – শ্রেণীসংগ্রামকে তীব্রতর করা। আর আমাদের, জনস্বাস্থ্যকর্মীদের, কাজ হল এই সুরের আগুন সবখানে ছড়িয়ে দেওয়া – ‘এসো সমিতির সাম্যের ঐক্যে/এস জনতার মুখরিত সখ্যে/এসো দুঃখ তিমির ভেদী/দুর্গম ধ্বংসে মৃত্যুর ভয় করি চূর্ণ/এসো প্রাণের আধার কর পূর্ণ’।